পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলম পরাজিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পঞ্চগড় জেলায় ভোটের হিসাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের একটি বড় অংশ এসেছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ভোট থেকে। ফলে ভোটের এই সমীকরণ নিয়ে শুক্রবার দিনভর এলাকায় আলোচনা চলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির দিক থেকে দুই প্রার্থীর কৌশলে পার্থক্য ছিল। তারা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সারজিস আলমকে সংগঠন গড়ে তোলা, মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রচারণায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সারজিস আলম ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও কোটাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। ওই সময় তরুণদের একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। অন্যদিকে, নির্বাচিত প্রার্থী নওশাদ জমির প্রচারণায় সংযত ভাষা, ধারাবাহিক জনসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতিও ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তার বাবা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকার একাধিকবার সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমিরউদ্দীন সরকারের সময়ে এলাকার শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং কর্মসংস্থানের উদ্যোগগুলো এখনও অনেকের স্মৃতিতে রয়েছে। এসব বিষয়ও ভোটের ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে বলে তারা মনে করেন।