ডাকসু থেকে সংসদে: নুরুল হক নুর ও আখতার হোসেনের নতুন অধ্যায়
ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে এবার জাতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় সংসদে পা রাখছেন নুরুল হক নুর ও আখতার হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়ে এই দুই তরুণ নেতা সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নুরুল হক নুর শিক্ষার্থীদের অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। একই নির্বাচনে সমাজসেবা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আখতার হোসেন বিভিন্ন আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলনের পর এবারের নির্বাচনে তারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ডাকসু নির্বাচনের পর নুরুল হক নুর প্রথমে শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদ, পরে ছাত্র অধিকার পরিষদ গঠন করেন। পরবর্তীতে তিনি গণঅধিকার পরিষদ নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে তার প্রতীক ছিল ট্রাক।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর–৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই দলে থাকা এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়–১ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তিনি ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে একটি হল সংসদে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী থাকা মুহাম্মদ রাশেদ খান ঝিনাইদহ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন।
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। জোটের শরিকেরা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। ফলে পরবর্তী সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। আরও দুটি আসনের ফল স্থগিত থাকায় সেখানে জয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে দলটির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডাকসু থেকে উঠে আসা নেতাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণকে আরও দৃশ্যমান করবে। তবে সংসদে তাদের ভূমিকা ও কার্যক্রমের ওপরই নির্ভর করবে এই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন।