বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় একাধিক নাম
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হওয়ায় দেশের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। নতুন ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এর অংশ হিসেবে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতি নিয়োগের বিধান কার্যকর হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী-এর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। একই সঙ্গে এ পদে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলি-এর ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিনকাসেম আরমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনাই তুলনামূলকভাবে বেশি।
সূত্রমতে, ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে বিরোধী দলের হুইপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংসদের বিভিন্ন পদে মনোনয়ন নিয়ে এখনো দলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জোটের ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে শরিক দলগুলোর বিষয়েও সমন্বয় করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন সংসদের সদস্যদের সামনে দুটি দায়িত্ব থাকবে। শপথ গ্রহণের পর প্রথম ১৮০ কার্যদিবস তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নিয়মিত সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নের কাজে অংশ নেবেন।
জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ একাধিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন বা নতুনভাবে গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে, যাতে অর্থবিল ও সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।