উচ্চকক্ষ ও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব চান দলিত-হরিজন-তফসিলি জনগোষ্ঠী
সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়ার মধ্যে দলিত, হরিজন ও তফসিলি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জনগোষ্ঠীর একজন যোগ্য প্রতিনিধিকে উচ্চকক্ষে মনোনয়ন এবং টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
দলিত-হরিজন-তফসিলি জনগোষ্ঠীর নেতাদের মতে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র নির্মাণ, শ্রম, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামো গঠনে তাদের অবদান দীর্ঘদিনের হলেও রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তারা ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষিত। তাদের দাবি, প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষের এই জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নেই, যা কাঠামোগত বঞ্চনার প্রতিফলন।
বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিনিধিত্বহীনতার কারণে উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় এই জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় না। ফলে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে সদস্য মনোনয়ন এবং টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভার কাঠামো বিদ্যমান থাকায় এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন তারা। তাদের মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ।
এই বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-উভয় দলের দায়িত্ব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ, দল দুটিই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে আসছে।
দাবিদারদের মতে, উচ্চকক্ষ ও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভায় এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির দৃষ্টান্ত তৈরি হবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং উন্নয়ন সহযোগিতা ও এনজিও কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা এই জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রকে নিজেদের বলে ভাবার সুযোগ পাবে। সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে এই সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেও তারা সতর্ক করেন।
বক্তব্যের উপসংহারে বলা হয়, দলিত-হরিজন-তফসিলি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক মুক্তি মানে কেবল আশ্বাস নয়; বরং নীতিনির্ধারণী টেবিলে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। উচ্চকক্ষ ও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভায় একজন প্রতিনিধির উপস্থিতিকে তারা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের বাস্তব সূচনা হিসেবে দেখছেন।