নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা শহীদদের ছিল, তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে তিনি এ কথা লেখেন।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এককভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরিদর্শন বইয়ের তারিখের ঘরে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ‘১৮-২-২০২৬’ লিখেছেন। পদবীর স্থানে তিনি লিখেছেন—‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’।
মন্তব্যের ঘরে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।”
পরিদর্শন বইয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, “বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।”
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত সব শহীদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
পরিদর্শন বইয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা কাজ শুরু করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় পরিদর্শন বইয়ে সই করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ এলাকায় বৃক্ষরোপণও করেন।
এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীসহ এ সরকারের আকার দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।