সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে সরকারি দল দেশের জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শপথের দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সরকার গণভোট, সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি দল দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করবে।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের স্বপ্ন এখন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি এবং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। নারীসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উপস্থিতিও নেই। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভায় অর্ধেকের বেশি সদস্য ব্যবসায়ী, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি। নাহিদ ইসলামের মতে, মন্ত্রিসভা গঠনে নতুনত্ব নেই এবং সেখানে হত্যা মামলার আসামিও রাখা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে দলটির পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দুই একদিন ধরে আওয়ামী লীগকে আবারও সামনে আনা হচ্ছে, যা নতুন সরকারি প্রশাসন এবং সরকারি দলের প্রশ্রয় ছাড়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির যোগসাজশ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম সরকারি দলের প্রতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, পুলিশকে যেন দলীয়করণ করা না হয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে তারা সাধুবাদ জানাবেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশ যদি আওয়ামী শাসনামলের দিকে ফিরে যায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, বিএনপি সংস্কার এবং গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, গণভোট বাতিল হলে এই নির্বাচন আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং গণভোট বাতিল হলে নতুন সরকারের বৈধতাও থাকবে না।