সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে আলোচিত ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগে দলের অনেক নেতাকর্মী কিছুটা অবাক হয়েছেন।
বিরোধী দল এই নিয়োগকে কড়া সমালোচনা করেছে। বিএনপির কিছু নেতা বলেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের সময়ে খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে নিয়মিত আলোচনাও হয়েছে। বিএনপির নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মন্ত্রী করার পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, খলিলুর রহমান কূটনীতিতে দক্ষ এবং পেশাদার। বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ-বাংলাদেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য একজন দক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রয়োজন। এই কারণগুলো বিবেচনা করে তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সাবেক কূটনীতিকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। সেই সময়ে বিএনপিও নির্বাচনের দিনক্ষণ চেয়ে আন্দোলনের হুমকি জানিয়েছিল, ফলে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই পটভূমিতে গত বছরের জুনে ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে নির্বাসনে থাকা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঐ বৈঠকে খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন এবং তখনই তিনি বিএনপির সঙ্গে তার পুরনো সম্পর্ক পুনরায় দৃঢ় করেন। সূত্রমতে, তখন থেকেই তারেক রহমান ও খলিলুর রহমানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
সাবেক কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান খলিলুর রহমানকে তার একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। সেই সময় থেকেই বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানাচ্ছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থেকেই তিনি নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তার কার্যক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।