ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ইরান পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। এসব শর্ত মেনে নিলে সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, হরমুজ প্রণালি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি সংক্রান্ত দাবিগুলো নতুন করে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটরের বরাতে জানা যায়, হিব্রু গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য এই শর্তগুলো সামনে এনেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই ইরান এই অবস্থান নিয়েছে। এক ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১. ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার জন্য দৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান।
২. পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা।
৩. যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রদান করতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
৫. ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ইরানের কাছে হস্তান্তর বা তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মিডল ইস্ট আইয়ের আরেকটি প্রতিবেদনে অতিরিক্ত একটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেটি হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অঞ্চলের সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, যার মধ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সংঘর্ষও অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অনুষ্ঠানে বলেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতার কারণেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা রাখে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধের জন্য ইরান এখন একটি সুযোগ পেয়েছে, এবং তা কাজে লাগানো হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।