মাদকবিরোধী একটি সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার কোনাবাড়ী প্রতিনিধি মো. মানিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি আহত হয়েছেন। হামলার সময় তার পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয় এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৩ মার্চ) কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব দক্ষিণপাড়া এলাকায় অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মানিক। ওই প্রতিবেদনের পর স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পেশাগত কাজে কোনাবাড়ীর দিকে যাওয়ার পথে মধ্যপাড়া বেগমপুর কলেজ গেট বাজার এলাকায় সাংবাদিক মানিকের পথরোধ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে লোহার রড, কাঠের বাটাম ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। এতে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
ঘটনার সময় তার স্ত্রী ও এক আত্মীয় এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। এতে তার আত্মীয় গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা সাংবাদিক মানিকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি মানিব্যাগ, পত্রিকার পরিচয়পত্রসহ একটি ব্যাগ এবং প্রায় ২৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর গলার স্বর্ণের চেইনও নিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী কাকলি বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মানিক বলেন, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে মাদক ও অপরাধবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। তার অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তার ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি রিয়াজ মাহমুদ তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, তিনি ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।