হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের সময় অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি আল্টিমেটাম আরও পাঁচ দিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
এরপর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান। ট্রাম্প জানান, এ প্রক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রস্তাবটির মূল শর্ত হচ্ছে—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র একটি বহুপদক্ষেপের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নিতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করা এবং বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া পরিকল্পনায় ইরানের নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোতে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ও ধ্বংসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার তদারকির আওতায় থাকবে। ইতোমধ্যে সঞ্চিত পারমাণবিক সক্ষমতা বিলুপ্ত করা এবং ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার অঙ্গীকারও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি ইরানকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর ব্যবহার সীমিত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর বিপরীতে ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার আওতায় দেশটির কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ছিল। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে চলমান সংঘাত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।