পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিনের দুই সতীর্থ রিকাডো কোয়ারেসমা ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। লিসবনের স্পোর্টিং সিপি একাডেমি থেকে শুরু হওয়া তাদের বন্ধুত্ব সময়ের ব্যবধানে আরও দৃঢ় হয়েছে। একজন ইতোমধ্যে ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন, অন্যজন এখনও আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে সমান দাপট বজায় রেখেছেন।
সাবেক উইঙ্গার কোয়ারেসমার মতে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে পর্তুগাল দলের প্রধান লক্ষ্য হবে রোনালদোকে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে স্মরণীয় বিদায় উপহার দেওয়া। চল্লিশ পেরিয়েও রোনালদো জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরতার নাম। অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে এখনও দলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনি।
কোয়ারেসমা বলেন, এটি হয়তো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তাই দল ও সমর্থকদের প্রত্যাশা, এই আসরেই শিরোপা জিতে বিদায় নেবেন তিনি। তার ভাষায়, রোনালদোর মধ্যে এখনো জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাও অটুট আছে।
বর্তমান পর্তুগাল দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও আশাব্যঞ্জক, যা দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আসরে ধারাবাহিক সাফল্য দলকে নতুন করে শিরোপা স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে আরেকটি কারণে। ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও রোনালদো—দুজনকেই আবারও একই আসরে দেখা যেতে পারে, যা ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। মেসি ইতোমধ্যেই ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এবং আরও একবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। বিপরীতে রোনালদোর সামনে এটি হতে পারে শেষ সুযোগ, যেখানে তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অপূর্ণতা পূরণ করতে চাইবেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও জমে উঠছে মেসি-রোনালদো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে নতুন সাফল্যের খোঁজে মেসি, অন্যদিকে শেষবারের মতো স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে রোনালদো—ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে আরেকটি স্মরণীয় আসরের জন্য।