নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-কে গত বছরের প্রাণঘাতী বিক্ষোভে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার একদিনের মাথায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির গণমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী কাঠমান্ডুর নিকটবর্তী ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকা থেকে ওলিকে আটক করা হয়। একই অভিযানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানান, শনিবার সকালে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম আইনি কাঠামোর মধ্যেই এগিয়ে নেওয়া হবে।
ওলির গ্রেপ্তারের পর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, এই গ্রেপ্তার প্রতিশোধমূলক নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সূচনা। তবে গ্রেপ্তারের পরপরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি অভিযোগ করেন, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি তার অবস্থান প্রমাণ করবেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভ চলাকালে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওলি ও লেখকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সরাসরি গুলির নির্দেশের প্রমাণ না মিললেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্কসহ বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
এছাড়া প্রতিবেদনে নেপাল পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুং-সহ আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জন তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষও ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর জেরে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেন নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি, যা দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেন বালেন্দ্র শাহ। তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।