দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার-এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়নে ফ্রান্সের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব বিষয় উঠে আসে। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশ সংস্কার, র্যাবের পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহায়তা এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সংস্কার কার্যক্রম রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; বরং ধাপে ধাপে উন্নয়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা হবে। মব পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতার কারণে পূর্বে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতা ছিল। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের মব পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সরকার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সভা-সমাবেশ ও মতপ্রকাশের আহ্বান জানান।
র্যাব প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একটি এলিট বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে র্যাবের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এদিকে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি জানান, ইতোমধ্যে Criminal Investigation Department-এর ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্স সহযোগিতা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে নতুন ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঙ্গা প্রতিরোধে নিয়োজিত বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। েএছাড়া ফ্রান্স দূতাবাসের অনুরোধে পুলিশ প্রধান, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং ফ্রান্স দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।