মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার শমশেরনগর এলাকার একটি চা বাগান-নিয়ন্ত্রিত হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ঐশী রবিদাস (১৩) শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক বাবুল রবিদাসের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুর খবরে চা শ্রমিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর চালান এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের ঘেরাও করেন। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে ঐশীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি অবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়নি।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। ঘটনার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন এবং তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অবহেলা হয়নি। তারা বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।