মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব এবার দেশের জ্বালানি খাতে এবং সরাসরি প্রভাব পড়েছে নওগাঁ জেলায় মোটরসাইকেল ব্যবসায়, যেখানে বিক্রি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে যেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, বর্তমানে সেখানে অনেক শোরুমে দিনভর কোনো বিক্রিই হচ্ছে না।
শোরুমে নেই ক্রেতা, থমকে সার্ভিসিং
সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে। একই অবস্থা সার্ভিসিং সেন্টারগুলোরও। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে আসত, এখন তা নেমে এসেছে ১-২টিতে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং অনেক পাম্পে কাগজপত্র ছাড়া তেল না দেওয়ার কারণে চালকরা অপ্রয়োজনে মোটরসাইকেল বের করছেন না। ফলে সার্ভিসিং খাতেও ধস নেমেছে।
ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা
তালতলী এলাকার স্কুলশিক্ষক নাসির হায়দার জানান, দীর্ঘদিন সঞ্চয়ের পর ঈদের আগে মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনের কারণে তিনি এখন নতুন মোটরসাইকেল কেনার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।
ব্যবসায়ীদের লোকসানের আশঙ্কা
নওগাঁর একাধিক বিক্রেতা জানান, চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। আগে ঈদ মৌসুমে যেখানে ৩০০-৪০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এক ডিলার জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু বিক্রি না থাকায় খরচ ওঠানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরেক বিক্রেতার ভাষ্য, ৯ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় এবারই সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছেন তারা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও বিক্রি করতে পারেননি।
জেলায় বিপুল মোটরসাইকেল
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া অনিবন্ধিত রয়েছে আরও প্রায় ১ লাখ। জেলার ১১টি উপজেলায় শতাধিক বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সংকট গভীর হতে পারে
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মোটরসাইকেল খাতে এই মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জীবিকাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।