ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় উপকূলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ঘটনার পরপরই আশপাশের দ্বীপাঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের নিচে। ভূকম্পনের গভীরতা ছিল আনুমানিক ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা আরও বেশি ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন আরও একজন। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছেন।
টারনেটের এক বাসিন্দা জানান, তিনি ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করে এবং এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে কম্পন অনুভূত হয়। পরে বাইরে বের হয়ে দেখেন, আতঙ্কিত মানুষজন রাস্তায় নেমে এসেছে। কেউ কেউ তাড়াহুড়োয় অসম্পূর্ণ কাজ রেখেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, শুরুতে কম্পন হালকা থাকলেও ধীরে ধীরে তা তীব্র হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সবাই দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
মানাদো শহরের এক চালক জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি গাড়ি থামিয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন, যাতে কোনো গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়লে ক্ষতি না হয়। স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, কম্পনের কারণে তিনি ঘুম থেকে জেগে বাইরে চলে আসেন, তবে তার এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়েনি। সুনামি সতর্কতা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে ঢেউ আঘাত হানতে পারে। কিছু এলাকায় জোয়ারের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য কিছু অঞ্চলে তুলনামূলক কম উচ্চতার ঢেউ দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাদের উপকূলে খুবই কম উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে, তবে এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
স্থানীয় প্রশাসন টারনেট ও তিদোরসহ আশপাশের এলাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূকম্পপ্রবণ বলয়ের মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।