আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনা-এর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি। গত সোমবার ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে দাবি করা হয়, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান আন্তর্জাতিক ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, অভিযোগ ও প্রমাণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ অবহিতকরণ এবং নিজ পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, চিঠিটি তারা পেয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ায় বিচারক ও প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের প্রভাব ছিল। বিচারকদের নিয়োগে স্বচ্ছতার ঘাটতি, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান কৌঁসুলির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইন প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার প্রসারিত করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিচার করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে। এ ধরনের অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতেই বিচার হওয়া উচিত ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলা হয়, এই বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচার, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই এবং প্রতিরক্ষার সুযোগসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি এ ধরনের বিচারের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রায় বাতিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিচার পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।