বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বিদ্যুৎ ও খনিজ খাতে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ সচিবালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি এবং একটি উচ্চপর্যায়ের নেপালি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য শক্তি, বিদ্যুৎ সঞ্চয়, খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি বিনিময় বিষয়ক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে হাইড্রো-পাওয়ার, সোলার এবং উইন্ড এনার্জি খাতে যৌথ প্রকল্পের সুযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও খনিজ খাতে এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে আঞ্চলিক খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে দৃঢ় করবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি ও খনিজ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-নেপালের যৌথ প্রকল্পগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ বাজারে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। তারা উল্লেখ করেছেন, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার বিনিময়ের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি খাতের স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করবে। বৈঠকে আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য শক্তি খাত সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ সঞ্চয়, আধুনিক নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ-নেপালের মধ্যে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।