ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে রাকিবা আক্তার (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
নিহত রাকিবা আক্তার উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজান মিয়ার মেয়ে। পরিবারের দাবি, শনিবার রাত ১২টার দিকে প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল এবং স্বাভাবিক প্রসবের অনুরোধ জানানো হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তীতে গাইনী চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামান অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন। পরিবারের ভাষ্য, সন্তান জন্মের পর প্রসূতিকে অচেতন অবস্থায় রাখা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের সন্দেহ হলে তারা রোগীর অবস্থা দেখতে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পান বলে অভিযোগ করেন।
নিহতের বাবা মিজান মিয়া বলেন, “আমার মেয়ে সুস্থ ছিল। হঠাৎ সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্তান জন্মের পর মেয়েকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। পরে আমরা জানতে পারি, সে আর বেঁচে নেই।” একই অভিযোগ করেন নিহতের মা রেহেনা আক্তার। তিনি বলেন, স্বাভাবিক প্রসবের অনুরোধ সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার করা হয় এবং চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। এর জেরে রবিবার সকালে তারা হাসপাতালে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেন। ঘটনার বিষয়ে পিয়াস বসাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল), জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।