বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পরিবার। এ বিষয়ে তার জ্যেষ্ঠ কন্যা মেহেত মামুন সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শওকত মাহমুদের মুক্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনপত্রে মেহেত মামুন উল্লেখ করেন, তার বাবা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির আদর্শে অবিচল থেকে রাজনীতি করেছেন এবং দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–এর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শ ধারণ করে সাংবাদিক সমাজকে সংগঠিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আবেদনপত্রে দাবি করা হয়, অতীতে রাজনৈতিক কারণে শওকত মাহমুদকে একাধিক মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ৭০টি মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘ দেড় বছর কারাবাস করতে হয়েছে। তবে এ সময়েও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। মেহেত মামুন অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে একটি ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ওই মামলায় জামিন লাভের পরও তাকে পুনরায় অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে পরিবারের দাবি। বিষয়টিকে পরিকল্পিত হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, কারাবন্দি অবস্থায় শওকত মাহমুদের শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। অতীতে তার একাধিকবার বাইপাস সার্জারি এবং স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে রিমান্ডে নেওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থতার কারণে তাকে পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই, চিকিৎসা ব্যয় এবং আয়-রোজগারের সংকটে পরিবারটি বর্তমানে আর্থিকভাবে চরম চাপে রয়েছে। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, শওকত মাহমুদ মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সর্বশেষ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়, যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মেহেত মামুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে তার বাবার মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।