শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে অঙ্গীকার, মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর
জাতীয় সংসদে শিক্ষাখাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি গুণগত ও জীবনঘনিষ্ঠ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, ধাপে ধাপে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে এটি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে ‘স্কুল ফিডিং’ বা মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ডিজিটাল ব্যবধান কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য পৃথক ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘এডু-আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তা ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা নিয়ে উদ্ধৃতিতে বললের “শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার একটি গুণগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”
উপসংহার
শিক্ষাখাতে বহুমুখী এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।