চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে সামরিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ড্রোনাল ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির চারপাশে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ, বিমান ও সেনা সদস্যরা অবস্থান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, তেহরান চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, বিমান ও সামরিক সদস্য—অতিরিক্ত গোলাবারুদ ও অস্ত্রসহ—ইরান এবং এর আশপাশে অবস্থান করবে, যতক্ষণ না প্রকৃত চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো কারণে তা বাস্তবায়িত না হয়—যদিও এমন সম্ভাবনা খুবই কম—তাহলে আবারও ‘গুলি চলবে’, এবং তা হবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, শক্তিশালী ও ব্যাপক।” এর আগে একই দিনে ইরান জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া ‘অযৌক্তিক’। বিশেষ করে, ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যার পর এমন আলোচনা সম্ভব নয় বলে মনে করছে তেহরান।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট বিভেদ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেন, “অনেক আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে-সব ভিন্ন বক্তব্য সত্ত্বেও কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয় এবং হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ থাকবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টেকসই সমাধান এখনও অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।