জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, আবু সাঈদ হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ ঘোষণা করা হবে। এ মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী–এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ রায়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ মামলার ছয় আসামি হলেন-এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৪ জুন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে তা পর্যালোচনা শেষে ৩০ জুন প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে একই দিন ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষে গত ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরদিন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন নিহত আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে আলোচিত ‘তারকা সাক্ষী’ হাসনাত আবদুল্লাহ-এর সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচনে সহায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। ওই দিন মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরবর্তীতে ৫ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় আজ রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকা ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।