যুদ্ধবিরতির অল্প সময়ের মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দেশটির রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একাধিক স্থানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়। এতে নারী ও শিশুসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যাও অনেক বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এই হামলার পরপরই ইরান পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার একে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইরান-এর অভ্যন্তরেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসফাহান ও কেরমান অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তেহরানের দাবি, এসব ঘটনা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি থাকলেও হিজবুল্লাহ-র বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।