পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, কূটনৈতিক অচলাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে বিমান হামলা চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ঘোষণাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি বাধা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিত না করলেও মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানান, প্রশাসন সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে জানান, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না।”
এ প্রসঙ্গে ইরানের অবস্থানও কঠোর। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কাছে তেহরান কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জলসীমার কাছাকাছি আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।