উপযুক্ত সময় এলে’ ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলাকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করাই তার রাজনৈতিক মিশন।
মাচাদো বলেন, ‘এটা একটি মিশন। আমরা ভেনেজুয়েলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ ভূমিতে পরিণত করতে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, যখন সময় আসবে, তখন আমি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবো—প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় নিজের প্রাপ্ত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন মাচাদো। ভেনেজুয়েলার ‘স্বাধীনতার’ প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপহার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে দেশ থেকে তুলে নিয়ে নিউইয়র্কে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করে। তবে এরপরও ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে মাচাদোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেননি।
বরং ট্রাম্প বলেন, দেশের ভেতরে মাচাদোর পর্যাপ্ত জনসমর্থন নেই। তার পরিবর্তে তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ-এর সঙ্গে কাজ করতেই আগ্রহী।
শুক্রবার ডেলসি রদ্রিগেজ ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে’ যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম র্যাটক্লিফের সঙ্গে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভেনেজুয়েলা যেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোর নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত না হয়—সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
মাচাদোর পরিবর্তে ডেলসির সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা তাকে সতর্ক করেছে। তিনি বলেন, ইরাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ার পর যে অস্থিতিশীলতা ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ভেনেজুয়েলায় হঠাৎ ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়ে সাবধানী।
পরে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে মাচাদো বলেন, তার দেশে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে। তিনি দাবি করেন, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অভূতপূর্ব কৌশলগত মিত্রে’ পরিণত হবে।
অন্যদিকে কারাকাসে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপে ভয় না পাওয়ার কথা জানান। তিনি ভেনেজুয়েলার মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি তেল খাতে সংস্কার ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।
ডেলসির সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প তাকে ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দেন। অন্যদিকে মাচাদোকেও তিনি ‘অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে আসা অসাধারণ নারী’ বলে মন্তব্য করেন এবং নোবেল পদক উপহারকে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন।