বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে প্রচলিত বেইলবন্ড দাখিল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) চালু করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা বলেন, এর আগে জামিন পেতে একজন আসামিকে ১০ থেকে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতেন বিচারপ্রার্থীরা। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত। নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় কে কখন সই করলেন—তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ আর এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারবে না।
এর আগে মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রচলিত বেইলবন্ড পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ই-বেইলবন্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বিচারপ্রার্থী, কারা প্রশাসন ও আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হয়, যা বর্তমানে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ থেকে মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর—এই আটটি জেলায় একযোগে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই উদ্যোগকে স্মরণীয় করে রাখতে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে আটটি জেলার জন্য একযোগে ই-বেইলবন্ড চালুকরণ উপলক্ষে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।