সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বাধীন কমিশন বর্তমান বেতনের তুলনায় ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
বুধবার বিকেল ৫টায় কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশে আবাসন ও যাতায়াত ভাতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈশাখী ভাতা বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ভাতা এখন থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আগে এটি ১১তম গ্রেড থেকে কার্যকর ছিল।
এছাড়া বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের (১১–২০ গ্রেড) জন্য তুলনামূলক বেশি হার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর
কমিশনের সুপারিশে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশনেও বড় পরিসরে বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে। যাঁরা মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাঁদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বেতন কাঠামোর খসড়া অনুযায়ী, ২০তম গ্রেড বা সর্বনিম্ন ধাপে মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেড বা সর্বোচ্চ ধাপে মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই বেতন কাঠামো গত ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন কমিটি এটি যাচাই-বাছাই করবে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।