গত দেড় দশকের ‘জুলুম–নির্যাতন’ এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যার জবাব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–র কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি চাই না; আমরা চাই ন্যায়বিচার ও ইনসাফ। সেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো জনগণের রায়ের মাধ্যমে জালিম শাসনের অবসান ঘটানো।’
তিনি আরও বলেন, অন্যায়–অবিচারের জবাব দিতে হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আয়োজিত ‘মজলুমদের মিলনমেলা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ এখন পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। জুলুমমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন নির্বাচন হবে ‘নির্ণায়ক’।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ইসলামী আন্দোলনের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও দমন–পীড়নের শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলা, রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার এবং বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেশকে ভয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। এই জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছিল বিগত সরকার। তাই জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের দমন–পীড়নের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে ১০ দলীয় জোটের পক্ষে গণসংযোগ আরও জোরদার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আফসার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শফিক আহমদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন–এর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা নুর হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদী এবং আমিরাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ হাসান।