গাজীপুরে ভোটারদের ঘরমুখো ঢল, দুই মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে গাজীপুরের দুই প্রধান মহাসড়কে ব্যাপক যানজট দেখা দিয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রভাব পড়ার আগেই মঙ্গলবার শিল্পাঞ্চল থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
সরকারি ছুটির পাশাপাশি কল-কারখানায় শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি মঙ্গলবার থেকেই শুরু হওয়ায় শিল্পাঞ্চল থেকে মানুষের চাপ বেড়ে গেছে। এতে ভাড়া তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দেখা যায়, ৫০০ টাকার ভাড়া ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। চাঁদনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেইট থেকে মাওনা চৌরাস্তা এবং গাজীপুরের ভোগড়া এলাকা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত যানজট রয়েছে। বহু যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।
যাত্রীরা জানান, সোমবার বিকেল থেকে ঘোষিত শিল্পকারখানার ছুটির কারণে সন্ধ্যার পর থেকেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশপথ চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায়ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাউগাতুল আলম বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পকারখানার ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সদস্যরা সড়ক স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব পরিবহনকারী অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যাত্রী আরিফ হোসেন বলেন, “ছুটি পাওয়ার পর রাতেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। যানজটের কারণে গাড়ি এগোতে পারেনি। ভাড়া এখন ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।”
শ্রমিকরা জানান, “রাস্তা দীর্ঘ যানজটে ভরা। কোনো গাড়িতে ন্যায্য ভাড়া নিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। সিন্ডিকেট করে ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে।”
পরিবহন চালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, “রাত ১টার দিকে সাভারে পৌঁছেছি। যাত্রীর চাপ বেশি থাকার কারণে ভাড়া বেড়ে গেছে। অনেক গাড়ি দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে আছে।”