অনুমতি নয়, অপরাধ হলেই গ্রেপ্তার-কঠোর বার্তা আইজিপির
চাঁদাবাজি, বেআইনি কর্মকাণ্ড, মব সন্ত্রাসসহ যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি ব্যবস্থা নেবেন-এমন স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন বাহারুল আলম। গতকাল রোববার মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আইজিপি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন এলাকায় মব সন্ত্রাস ও প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। নতুন সরকার গঠনের পর মাঠ প্রশাসনকে আরও দৃঢ়ভাবে আইন প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ও সন্ত্রাস-যে কোনো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠকে মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ওসি পদায়ন নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। এক রেঞ্জের ডিআইজি জানান, লটারির মাধ্যমে ওসি পদায়নের ফলে গুরুত্বপূর্ণ থানায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল কর্মকর্তারা দায়িত্ব পেয়েছেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২৭ ফেব্রুয়ারির পর যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় লটারি ছাড়া পদায়নের প্রস্তাব দিলে আইজিপি বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
আরেক কর্মকর্তা জানান, নবনির্বাচিত কয়েকজন সংসদ সদস্য সশস্ত্র গানম্যান চেয়েছেন। এ বিষয়ে বৈঠকে জানানো হয়, বিদ্যমান আইনে সংসদ সদস্যদের জন্য নিয়মিত সশস্ত্র গানম্যানের বিধান নেই। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে যে কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আইজিপি মাঠ কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের যে কোনো তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কেউ জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। মহাসড়কে ডাকাতি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, “যে কোনো মূল্যে মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধ করতে হবে।” এ জন্য হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরাধের ঘটনায় দায় এড়ানোর ঠেলাঠেলি বন্ধ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশও দেন তিনি।
বৈঠকে পুলিশ সদস্যদের যানবাহন সংকট, নতুন পোশাক নিয়ে অসন্তোষসহ বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার কথাও উঠে আসে। আইজিপি বলেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুলিশকে পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।