চট্টগ্রামে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৬
চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী উপজেলায় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে দুই পক্ষই।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহেদুল আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য মঞ্জুর আলম, ছাত্রদল নেতা মো. ইমনসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাবি, তাদের পক্ষের আলমগীর, এনাম ও মামুনসহ আট থেকে দশজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের দিন হিন্দুপাড়ার ভোটারদের নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দৌলতপুর জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে জামায়াতের যুব সংগঠনের সেক্রেটারির নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে কর্ণফুলী জামায়াতে ইসলামীর আমির মনির আবছার চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিএনপি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ফাজিল খাঁর হাট বাজারে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।