বরিশালে ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা, দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বরিশালে একটি পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশাল অঞ্চলে শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যাপ্ত শিল্পকারখানা না থাকায় কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কাজের সন্ধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের অভাবে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ১৯ শতাংশ মানুষ রাজধানীমুখী হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, নদীপথ, সড়ক যোগাযোগ এবং পর্যাপ্ত জমি থাকার পরও শিল্পাঞ্চলের অভাবে বরিশালের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ঘোষণার পর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থী ও তরুণরা। সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, বরিশালে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য অন্য জেলায় যেতে হবে না। সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার মনে করেন, ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হলে নারী কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে নিজ জেলাতেই কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
একই কলেজের শিক্ষার্থী মাহিন আহমেদ বলেন, শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু কারখানাই নয়, আবাসন, পরিবহন, ব্যবসা ও সেবাখাতেও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান বরিশালকে শিল্প বিনিয়োগের জন্য আরও সম্ভাবনাময় করে তুলতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বচ্ছতা বজায় রেখে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানান। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আকতারুজ্জামান খান বলেন, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগের সুবিধা কাজে লাগানো গেলে বরিশাল বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আহসান হাবিব বলেন, ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে এবং প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।