গোপনে ভিডিও ধারণ ও পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগে দম্পতি গ্রেপ্তার
গোপনে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পিরোজপুরের মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা শেখ মারুফ আহম্মেদ (৩০) এবং তার স্ত্রী নূরে জান্নাত মিতু (২৫)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই বোনের স্বামীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় বড় বোনের স্বামী সামিউল ইসলাম সজীব রাজশাহীর মতিহার থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ২৮ এপ্রিল নূরে জান্নাত মিতু ও তার স্বামী শেখ মারুফ আহম্মেদ কারাগারেও ছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গত ১৯ মে রাতে অভিযুক্তরা বড় বোনের ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করেন। পরে সেগুলো ভুক্তভোগীর মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় ২১ মে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত দম্পতি তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধ না করে নানা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরবর্তীতে মামলা দায়েরের জেরে তার স্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, তার শ্যালিকা গোপনে তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছিলেন। পরে অভিযুক্ত মারুফ আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নতুন করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করেন এবং সেগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি বাসা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজশাহী থেকে আসা পুলিশের একটি দলের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।