ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৯ দেশের অভিবাসন নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিতর্কিত অভিবাসনসংক্রান্ত কয়েকটি নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন। এসব নীতির আওতায় ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, কর্মসংস্থান অনুমতি, স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন (গ্রিন কার্ড) এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে স্থগিত রাখা হয়েছিল। শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে চিফ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এ রায় দেন। আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে অনির্দিষ্টকাল ধরে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে এবং আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, অভিবাসনপ্রার্থীরা প্রচলিত আইন অনুসরণ করে আবেদন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে সেসব আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আদালতের মতে, এমন পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি ছিল না এবং এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। বিচারক ম্যাককনেল বলেন, আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ বা ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাদের জন্মস্থান বা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে, যা ন্যায়সঙ্গত নয়।
চলতি বছরের মার্চে কয়েকটি অভিবাসন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে এ নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের আবেদন আটকে দিয়ে প্রশাসন বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করেছে এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আদালতের রায়কে আইনের শাসন ও সমঅধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, বৈধভাবে আবেদনকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর কঠোর অভিবাসন বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, সোমালিয়া, হাইতি ও ভেনিজুয়েলাসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধা সংক্রান্ত আবেদন কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এসব সিদ্ধান্তের ফলে বহু মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। একই সঙ্গে এটি বিদ্যমান অভিবাসন আইন ও প্রশাসনিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর হাজার হাজার আবেদনকারী তাদের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া পুনরায় সচল হওয়ার আশা করছেন। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।