আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তেলের বাজারে ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাবে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার (২৫ মে) এশিয়ার বাজারে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য নির্ধারণের অন্যতম সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৩৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। পরে দিনের শুরুতে এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও কমে ৯৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
একই সময়ে ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছে। এতে এ জ্বালানিটির দাম কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
তবে সরকারি ছুটির কারণে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জ্বালানি এবং আর্থিক বাজার বন্ধ রয়েছে।
BBC প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার তিনি জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা হবে। বিশ্বে উৎপাদিত খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়ে থাকে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনার খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর মধ্যে জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা ও সংঘাতের কারণে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক চাপে পড়েছিল। নতুন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা ফিরতে শুরু করেছে।