জুলাই আন্দোলনে আহতদের পাশে ছিল ঢামেক, চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতাল দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানবিক দায়িত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢামেকের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজে মানুষের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গাগুলোর একটি হলো চিকিৎসক। সংকটময় মুহূর্তে মানুষ চিকিৎসকদের কাছেই ছুটে আসে এবং তাদের মানবিক সেবা মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে ওঠে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার মায়ের চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে দেশের চিকিৎসকরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিয়েছেন। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও চিকিৎসকদের মানবিক আচরণ ও নিবেদনের কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর তার আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোগীদের সেবা সম্প্রসারণে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব ও নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ৬০০টি উপজেলা থাকলেও মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। তাই তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, যার ফলে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আস্থাশীল করে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশমুখিতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন।