পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি দানবাক্সে মিলেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কারও। শনিবার (২৭ জুন) রাত ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় শুরু হয় অর্থ গণনার কাজ। প্রায় ১৪ ঘণ্টার টানা কার্যক্রম শেষে রাত পৌনে ৯টার দিকে গণনা সম্পন্ন হয়। টাকা গণনার কাজে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি মসজিদসংলগ্ন মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ৫৯০ জন অংশ নেন।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সূত্র জানায়, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদের উন্নয়ন ছাড়াও জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা এবং নানা সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়। এদিকে পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নামে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ১১৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।