আদালতে হাজিরা দিয়ে আইভীর বক্তব্য: ‘নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনবারের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে তিনি বলেন, “নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী।”
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে উপস্থিত হন আইভী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আইভী বলেন, তিনি সবসময় নারায়ণগঞ্জে অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ করলেও বর্তমানে তাকেই অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হাজিরা শেষে তিনি আদালত ত্যাগ করে দেওভোগে নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় আদালত চত্বরে তার সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, গত বছরের ৯ মে গ্রেপ্তারের পর তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে নেওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার ছিল ওই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন। জামিনে থাকায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইভী আদালতে হাজিরা দেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার কারণে আইভী শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল।
আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হওয়া পর্যন্ত ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে তার পক্ষে আইনজীবী আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ৩৯১ দিন কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের ৪ জুন তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।