মেসি না এমবাপ্পে, কার হাতে উঠবে গোল্ডেন বুট?
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। শিরোপার পাশাপাশি এখন সমান আগ্রহ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোকে ঘিরে। গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা তারকাদের নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। আর মাত্র একটি ম্যাচের অপেক্ষা। এরপরই শেষ হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তার আগে ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপ ট্রফির পাশাপাশি প্রতিবারের মতো এবারও দর্শকদের নজর ব্যক্তিগত পুরস্কারের দিকে। টুর্নামেন্ট শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ছয়টি ব্যক্তিগত সম্মাননা প্রদান করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত তিনটি হলো গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন গ্লাভস।
গোল্ডেন বুটে মেসি-এমবাপ্পে দ্বৈরথ
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় গোল্ডেন বুট। এবারের আসরে এ পুরস্কারের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত দুজনই করেছেন সমান আটটি করে গোল। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে সামান্য এগিয়ে আছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটি, যেখানে এমবাপ্পের তিনটি। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট বিবেচনায় নেওয়া হয়। এরপরও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে থেকে গোল ও অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবেন মেসি, অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন এমবাপ্পে। ফলে শেষ দুই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য। এদিকে, গোলদাতাদের তালিকায় ছয় গোল নিয়ে রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। একই সংখ্যক গোল করেছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, যার ঝুলিতে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্টও। স্পেনের মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল করেছেন পাঁচ গোল।
গোল্ডেন বলে আবারও মেসির সম্ভাবনা
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে দেওয়া হয় গোল্ডেন বল। ২০২২ সালে এই সম্মাননা জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। এবারও তার পারফরম্যান্স তাকে শীর্ষ দাবিদারদের কাতারে রেখেছে।
ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে। পরবর্তীতে বিশ্বকাপ কাভার করা স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হন টুর্নামেন্টসেরা ফুটবলার। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা খেলোয়াড়রা পান যথাক্রমে সিলভার বল ও ব্রোঞ্জ বল।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে রানার্সআপ দলের হয়েও গোল্ডেন বল জয়ের নজির রয়েছে। ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদান, ২০১৪ ও ২০২২ সালে লিওনেল মেসি এবং ২০১৮ সালে লুকা মদ্রিচ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মেসি ছাড়াও রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, আর্লিং হালান্ড এবং কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
গোল্ডেন গ্লাভসে আলোচনার কেন্দ্রে ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের জন্য দেওয়া হয় গোল্ডেন গ্লাভস। ২০২২ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ক্লিন শিট, গুরুত্বপূর্ণ সেভ, ম্যাচে প্রভাব এবং পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে ফিফা। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
পুরো টুর্নামেন্টে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি নজর কেড়েছেন ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা গেছে।
এ ছাড়া গোল্ডেন গ্লাভসের দৌড়ে রয়েছেন উরুগুয়ের অরল্যান্ডো গিল, পর্তুগালের দিয়োগো কস্তা, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, মরক্কোর ইয়াসিন বুনো এবং মিশরের মোস্তফা শোবেইর। ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করবে। ফলে বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উত্তেজনা থাকছে মাঠে এবং মাঠের বাইরেও।