অপসংস্কৃতি বর্জনের আহ্বান, জীবনমুখী সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ চান সংস্কৃতি মন্ত্রী
অপসংস্কৃতি ও জীবনবিমুখ ধারার পরিবর্তে মানুষের জীবন, সংগ্রাম এবং গণমানুষের চেতনা ধারণ করে এমন জীবনমুখী সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বারোপ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষা এবং জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। সোমবার রাজধানীর মালিবাগে স্কাই সিটি হোটেলে ঢাকা কালচারাল একাডেমি আয়োজিত ‘সুপার সাকসেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ (সিজন-৩)’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের পাশাপাশি মানুষের সুস্থ বিনোদনের জন্য ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পর্যটনের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের শাসনামলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ওপর পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সংস্কৃতি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী যাত্রা ও থিয়েটারকে নতুনভাবে চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হবে জীবনঘনিষ্ঠ এবং মানুষের সংগ্রাম, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক চেতনার প্রতিফলন। কোনো ধরনের অশ্লীলতা বা জীবনবিমুখ সংস্কৃতিকে উৎসাহ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি হাছন রাজা, লালন, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদী ও ভাটিয়ালিসহ দেশীয় লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস সংরক্ষণ জাতীয় পরিচয় রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক, সমাজসেবী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ‘সুপার সাকসেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী।