আমাকে হ/ত্যা করা হলে ইরানের ওপর নজিরবিহীন হা/ম/লা হবে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের হাতে তিনি নিহত হলে কী ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সে বিষয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরানের বিরুদ্ধে অতীতের যেকোনো হামলার চেয়ে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যদি তার কোনো ক্ষতি হয়, তবে ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রার হামলা চালানো হবে, যা দেশটি আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এলো, যখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ইরান নাকি তাকে হত্যার একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু। তার মতে, বহু বছর ধরে তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তার বিরুদ্ধে হত্যার আহ্বানসংবলিত কিছু ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনা নজরে এসেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব ঘটনা ইঙ্গিত করে যে, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে লক্ষ্য করে শত্রুতামূলক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি এমন কিছু তথ্য পেয়েছে, যেখানে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে ইসরায়েলের সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যকে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পারস্পরিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।