হাসনাত-সারজিসকে ঘিরে নতুন বিতর্ক,বিস্ফোরক অভিযোগ রাশেদ খানের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জাতীয় নাগরিক রাজনীতি, প্রশাসনে নিয়োগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান।
পোস্টের শুরুতেই তিনি ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল দুদক কার্যালয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, ওই দিন তারা দুদকে কী ধরনের "অতিগোপনীয় অভিযোগ" নিয়ে গিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই বৈঠককে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সচিবালয়ে সমন্বয়ক পরিচয়ে রাত পর্যন্ত অবস্থান করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের তালিকা তৈরিতে কিছু ব্যক্তি ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি এ প্রসঙ্গে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের নাম উল্লেখ করে বলেন, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিক ছাত্র সমন্বয়ক ছিলেন না, তবুও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়ক পরিচয়ে প্রবেশ ও দায়িত্ব পালন করেছেন।
পোস্টে তিনি যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজম এবং গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের সম্পর্কের বিষয়ও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, তানভীরকে সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছিল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের পরামর্শে। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দেন, যেখানে গাজী সালাউদ্দীন তানভীর বলেছিলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের পরামর্শেই তিনি সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। একই সাক্ষাৎকারে ডিসি নিয়োগের তালিকা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও তিনি স্বীকার করেন এবং বলেন, আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ সম্পর্কে জানার অধিকার তাদের রয়েছে।
রাশেদ খানের দাবি, ডিসি নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের পরও গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত একজন ব্যক্তিকে কেন পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হলো এবং এর পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছিলেন। দুদকের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দুদক ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার প্রতিবেদন দাখিল করে। এর পর আদালত তাকে অব্যাহতি দেন। তিনি দাবি করেন, সে সময় দুদকের নেতৃত্বে থাকা কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেন।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল দুদকে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল গাজী সালাউদ্দীন তানভীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রামাণ্য তথ্য বা নথি উপস্থাপন করেননি।
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম সরাসরি কোনো অনিয়মে জড়িত না থাকলেও তাদের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে প্রভাব খাটানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা দুর্নীতির ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, রাশেদ খানের উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।