হান্নান মাসুদদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার লেনদেনের দাবি রাশেদ খানের
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক হান্নান মাসুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেনের আলোচনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নানা অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি রাশেদ খান।
সম্প্রতি দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে হান্নান মাসুদই সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে হান্নান মাসুদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকের বেশিরভাগই রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি হোটেলে হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
পোস্টে রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদ সদস্যকে বিদেশে পাঠানো বা বিমানবন্দর পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তার দাবি, ওই আলোচনায় কয়েক কোটি টাকার একটি সমঝোতার বিষয় উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি আবদুল গাফফার জিসান নামে এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন।
রাশেদ খানের দাবি অনুযায়ী, আবদুল গাফফার জিসান গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তী সময়ে সমন্বয়কদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ২৭ জুলাই থেকে আত্মগোপনে থাকা সমন্বয়ক রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল গাফফার জিসানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে জিসান উপস্থিত ছিলেন। সমন্বয়কদের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণের কাজও তিনি করতেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়, জিসানের ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এবং হান্নান মাসুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অন্যদিকে জিসান নিজে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে দীর্ঘদিন তিনি হান্নান মাসুদের নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক সহায়তার কাজে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খান। রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের পর হান্নান মাসুদের জীবনযাপন, রাজনৈতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি আগ্রহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে পান জিসান। এসব কারণে পরবর্তীতে তিনি হান্নান মাসুদের কাছ থেকে দূরে সরে যান বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে নোয়াখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে ঘিরেও বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। রাশেদ খান দাবি করেন, নোয়াখালীর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে মোহাম্মদ আলীকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতেন হান্নান মাসুদ। এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রভাব খাটিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া বিভিন্ন আলোচনায় হান্নান মাসুদ নোয়াখালীর রাজনীতি নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করতেন। এমনকি নোয়াখালীর সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং সে লক্ষ্যে আর্থিক ও রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের বিষয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন বলে রাশেদ খান দাবি করেন।
তবে ফেসবুক পোস্টে উত্থাপিত এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথিপত্র, অডিও, ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে হান্নান মাসুদ, আবদুল গাফফার জিসান, রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার কিংবা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।