পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। দলটির প্রধান ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেক অভিজ্ঞ নেতা ও তারকা প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, এই আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল ১৫ হাজারের বেশি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম আসনেও জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে হেরেছেন। বিধাননগর আসনে সুজিত বসু প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন। দমদম উত্তর কেন্দ্রে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রায় ২৬ হাজার ভোটে হেরে যান।
তারকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। বরাহনগর কেন্দ্রের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৭ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ব্যারাকপুর আসনে রাজ চক্রবর্তী ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান।
এ ছাড়া রাসবিহারী আসনে দেবাশিস কুমার প্রায় ২১ হাজার ভোটে পরাজিত হন। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাস, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা এবং বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায়ও নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারেননি।
কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসনে অতীন ঘোষ অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে গৌতম দেব বড় ব্যবধানে হেরে যান। বালুরঘাট আসনে অর্পিতা ঘোষও উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয় এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে বামফ্রন্টের দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে প্রায় দেড় দশক পর এবার রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্র অনলাইন : বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।