পরিকল্পনা ছাড়া কোনো অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি’ বিষয়ক এক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কার্যক্রম মূল্যায়নে মূলত বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নয়। নতুন কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমান অবস্থান থেকে আগামী তিন বা পাঁচ বছরে কী অর্জন করা হবে তা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি বছরভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।
সিনিয়র সচিব আরও জানান, এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তর কতটুকু কাজ সম্পন্ন করছে তা সহজে পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে, যা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলছে।
জানা যায়, সরকারি কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি চালু করা হয়। এর আওতায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হওয়ায় আরও ফলাফলভিত্তিক ও বাস্তবমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন দেখা দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন করে ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি’ চালুর উদ্যোগ নেয়। এটি একটি নিয়মিত, কাঠামোবদ্ধ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, যা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক ফলাফল অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।