রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী উৎসবের ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই জলোৎসব। উৎসবকে ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো পাহাড়ি জনপদ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিম্রং বৌদ্ধ বিহারে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জলোৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এই উৎসব পার্বত্য তিন জেলায় সপ্তাহজুড়ে চলবে। এর আগে ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত উদযাপিত হয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব—চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।
জলোৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ সময় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে উৎসবস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করতে সাংগ্রাই জলোৎসব পালন করা হয়। তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নতুন বছরের সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সাংগ্রাই শুধু মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলা। এ ধরনের আয়োজন দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে। উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৃত্য, সঙ্গীত ও পানিখেলার আনন্দে মেতে ওঠেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।