ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা
পবিত্র ঈদ যাত্রাকে করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। ঈদযাত্রা, কোরবানির পশু পরিবহন, হাটে আর্থিক লেনদেন এবং সাইবার নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রা শুরুর আগে অবশ্যই সঠিক পরিকল্পনা করে রওনা দিতে হবে। বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ফেরিতে অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চালকদের অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালাতে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। ক্লান্ত বা অসুস্থ অবস্থায় কোনোভাবেই যানবাহন চালানো উচিত নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। মহাসড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন না চালানোর নির্দেশনাও রয়েছে।
রেলপথে যাত্রার সময় পাথর নিক্ষেপ, টিকিট কালোবাজারি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ সম্পর্কে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম যথাযথভাবে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাক, লঞ্চ বা নৌযানে অতিরিক্ত পশু বোঝাই না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি হাটে কেনাবেচার সময় অর্থ লেনদেনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মতো সেবা ব্যবহারের সময় পিন নম্বর ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং সন্দেহজনক নোট পেলে দ্রুত থানায় জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া ঈদের সময় পশুর হাট ও শপিংমলে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে।