ফোন-ফ্রিজে ‘CE’ লেখা থাকে কেন? জানুন আসল কারণ
স্মার্টফোন, চার্জার, ফ্রিজ, এসি কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্যের গায়ে ছোট করে লেখা ‘CE’ চিহ্ন অনেকেরই নজরে আসে। তবে এই দুই অক্ষরের অর্থ কী কিংবা কেন এটি ব্যবহার করা হয়-সে বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের পরিষ্কার ধারণা নেই। অনেকে এটিকে পণ্যের উচ্চমানের প্রতীক মনে করলেও বাস্তবে এর অর্থ ভিন্ন।
‘CE’ শব্দটি এসেছে ফরাসি ভাষার ‘Conformité Européenne’ থেকে, যার অর্থ ‘ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’। অর্থাৎ কোনো পণ্যে এই চিহ্ন থাকলে সেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে-এমন ঘোষণা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে।
ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় ১৯৮৫ সালে ‘নিউ অ্যাপ্রোচ’ নীতির আওতায় এই মানদণ্ড চালু করে। পরে ১৯৯৬ সাল থেকে নির্দিষ্ট ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যে CE চিহ্ন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এই চিহ্ন থাকলে পণ্যটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে সহজেই বাজারজাত করা যায়। এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের মতো কয়েকটি দেশেও এই মানচিহ্ন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে CE সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক নয়, কারণ সেখানে নিজস্ব মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
শুধু মোবাইল ফোন বা গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিই নয়, খেলনা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রেও CE চিহ্ন দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, CE চিহ্নকে কখনোই পণ্যের মানের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এটি মূলত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্ব-ঘোষণার ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয় যে তাদের পণ্য ইউরোপীয় মানদণ্ড পূরণ করেছে। ফলে যথাযথ যাচাই ছাড়া এই চিহ্ন ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটে।
এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে নকল CE লেবেলযুক্ত চার্জার, অ্যাডাপ্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য পাওয়া যায়। তাই শুধু CE চিহ্ন দেখে নয়, বরং বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।