মায়ের সন্তুষ্টিতেই লুকিয়ে আছে সন্তানের সফলতা
ইসলামে মা শুধু একজন অভিভাবক নন, বরং সন্তানের জীবনে সবচেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে সন্তান জন্মদান, লালন-পালন ও প্রতিপালনের দীর্ঘ পথজুড়ে একজন মা যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তার স্বীকৃতি ইসলাম বিশেষভাবে দিয়েছে। এ কারণেই ইসলামী শিক্ষায় মায়ের মর্যাদা ও অধিকার অত্যন্ত উচ্চস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষভাবে মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে মানুষকে তার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষকে তিনি মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ মা তাকে কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং কষ্টের মধ্য দিয়েই জন্ম দিয়েছেন। সন্তান যখন পরিণত বয়সে পৌঁছে, তখন তার উচিত আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের পাশাপাশি মা-বাবার অবদানের প্রতিও কৃতজ্ঞ থাকা এবং তাদের জন্য কল্যাণ কামনা করা। (সুরা আহকাফ : ১৫)
পবিত্র কোরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন এবং দীর্ঘ সময় তাকে লালন-পালন করেন। তাই আল্লাহর শুকরিয়ার পাশাপাশি মা-বাবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব। (সুরা লোকমান : ১৪) হাদিসে মা-বাবার মর্যাদাকে জান্নাত ও জাহান্নামের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই সন্তানের সফলতা নিহিত, আর তাদের অসন্তুষ্টি হতে পারে পরকালের ক্ষতির কারণ। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১)
মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কোনো সন্তান যদি স্নেহ ও শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে মা-বাবার দিকে তাকায়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে কবুল হজের সমপরিমাণ সওয়াব দান করেন। (সুনানে বায়হাকি)
ইসলামে মায়ের মর্যাদা কতটা উঁচু, তা মহানবী (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তার সদাচরণ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি অধিকারী কে? উত্তরে তিনি তিনবার ‘তোমার মা’ বলেছিলেন। এরপর চতুর্থবার তিনি বলেন, ‘তোমার বাবা।’ (সহিহ বুখারি)
এ হাদিসের মাধ্যমে ইসলামে মায়ের অসামান্য মর্যাদা ও সন্তানের ওপর তার অধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ একজন মা সন্তানের জন্য যে কষ্ট, ত্যাগ ও মমতা প্রদর্শন করেন, তার তুলনা অন্য কোনো সম্পর্কের সঙ্গে করা কঠিন।
ইসলাম শুধু মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের কথা বলেনি; বরং তার সেবা, সম্মান, আনুগত্য এবং কল্যাণ কামনাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। তাই প্রত্যেক সন্তানের উচিত মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, তার খোঁজখবর নেওয়া এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। কেননা মায়ের সন্তুষ্টির মধ্যেই নিহিত রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।